
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তবে এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ শীর্ষক এই উদ্যোগের ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় নিত্যপণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় দিয়েছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি।
উন্নত বিশ্বে ব্ল্যাক ফ্রাইডে, ক্রিসমাস বা রমজান উপলক্ষে পণ্যের দামে ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও আমাদের দেশে চিত্রটি সাধারণত উল্টো। উৎসবকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর এই প্রচলিত প্রথা ভাঙতেই উদ্যোগী হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এর আগে গত ঈদুল ফিতরে তিনি প্রথম এই ধারণার প্রবর্তন করেছিলেন। চট্টগ্রামে যোগ দেওয়ার পর খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে তিনি ‘ফেস্টিভ সেল’ বা উৎসবকালীন ছাড়ের এই কার্যক্রম শুরু করেন।
উদ্যোগটি বাস্তবায়নে পুলিশ, র্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই, কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠন করা হয় বিশেষ ‘বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স’। মহানগরসহ ১৫টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সম্প্রতি আদার দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছালে প্রশাসন বন্দরে আটকে থাকা কনটেইনারের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দ্রুততম সময়ে ৩৭ কনটেইনার আদা খালাস করা হয়। এতে খাতুনগঞ্জসহ পাইকারি বাজারগুলোতে আদার দাম দ্রুত কমে আসে, যার সুফল পায় সারা দেশ।
প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ মহানগর ও উপজেলার বাজারগুলোতে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলার দামে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের বড় চারটি সুপারশপ- স্বপ্ন, আগোরা, শপিং ব্যাগ ও বাস্কেট-এর ৩৩টি শাখায় ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আলু, পেঁয়াজ, চাল, চিনি, আটা ও মসলাসহ ৩৯টি পণ্যে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি।
উদ্যোগটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরে এসে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার জানামতে, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি, বরং কিছুটা কমেছে। আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ কর্মসূচি প্রমাণ করেছে, সমন্বিত উদ্যোগ ও সঠিক তদারকি থাকলে উৎসবের সময়ও বাজার পরিস্থিতি ক্রেতাদের অনুকূলে রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের উৎসবগুলোতে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের মডেল অনুসরণ করা হলে তা জনকল্যাণমুখী প্রশাসন নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
