মঙ্গলবার ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে গ্যাস পাইপলাইনে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী পণ্য খালাসে জটিলতায় গতি হারাচ্ছে ভোমরা বন্দরের বাণিজ্য মালয়েশিয়া-চীন সফরে ভালো কিছু অর্জন হলে তা দেশের মানুষের দেশে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী চবিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘গ্র্যাজুয়েট সিম্পোজিয়াম’ অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রধানমন্ত্রীর শোক পেঁয়াজের দামে হঠাৎ পতন কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠছে না আধুনিক যুগে পুরাতন আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়
Advertise with us

ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যরা পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেন, সমালোচনাও করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারসহ প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন হতে পারে। এসব সংশোধনের পর আজ সোমবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের অর্থবিল চূড়ান্ত হওয়ার কথা আছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এই বেশি পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক ক্ষেত্রে কর আরোপ করা হয়েছে। নতুন আরোপিত কর নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের নেতিবাচক সমালোচনা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমালোচনা এড়াতে এনবিআরকে প্রস্তাবিত বাজেটের জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো সম্ভব কি না, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার, আবাসন খাতে নিবন্ধনের খরচ কমানো, সঞ্চয়পত্রের ওপর আরোপিত কর, শিল্পের অনেক খাতে উৎসে করে ছাড় দেওয়া সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, সরকার জনকল্যাণে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছে। এই বাজেটের কোনো ধারায় বা কোনো পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাতে সংশোধনী আনা হবে। তবে দেশের উন্নয়নে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।

চলতি অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এনবিআর আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা ধার্য করতে পারে বলে জানা গেছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে আয়কর আইনের প্রথম তফসিলে সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধন করে ‘স্বতঃপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ নামে নতুন ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত অর্থবিল ব্যাখ্যা করে বলা যায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর বিক্রেতাকে ১৫ শতাংশ মূলধনি কর দেওয়ার ধারা আনা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল বিশ্লেষণ করে বলা যায়, ‘স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার পূর্বে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। তা ছাড়া স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার আগে বাংলাদেশের কোনো আদালত ঘোষণাকারীকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি আইনের এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।’

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমালোচনা এড়াতে চূড়ান্ত অর্থবিলে এই ধারা বাতিল করার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই বলে এনবিআর জানিয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থবিলে ব্যাংক হিসাব খোলায় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (ইটিআইএন) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে গ্রাহক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করে বিভিন্ন ব্যাংক। এখন এনবিআর এই ধারা বাতিলের পক্ষেও মত দিয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থবিলে ৫০ লাখ টাকার নিচে বার্ষিক বিক্রি বা টার্নওভার আছে এমন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওপর এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণের ভ্যাট আরোপ করা হয়, যা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ভ্যাট কেটে নেওয়ার কথা অর্থবিলে স্পষ্ট করা হয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে আশঙ্কা থেকে প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিয়ে এনবিআরকে নতুনভাবে ভাবতে নির্দেশ দেন। এনবিআর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই ধারা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের জনতুষ্টির দায় আছে। ভোটের জন্য আবারও জনগণের কাছে যেতে হবে। তাই জনগণ যেসব পদক্ষেপের সমালোচনা করবে তা এড়িয়ে যাওয়া ভালো।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়