
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয় ও শাপলা চত্বর এলাকায় পৃথকভাবে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন দুই পক্ষ। পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও বিক্ষোভে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে তারা বিক্ষোভ সমাবেশও করছেন। এর আগে টানা চার দিন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। ‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’ স্লোগান দিচ্ছেন তারা। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন বলে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান।বাংলাদেশ অর্থনীতি পর্যালোচনা
গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।
একইসঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত এবং অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধা সমন্বয়ের দাবি জানান নুরুন্নবী মানিক। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে।
মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, চাকরিচ্যুতদের অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যাংকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিও ছিল না। পরে চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরির জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেকেই বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত আছেন।
তার দাবি, আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের অনেকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে তাদের পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে ফোরামের আপত্তি রয়েছে। আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা এবং তারা এস আলম গ্রুপের সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পণ্য বাজার বিশ্লেষণ
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করার পর কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তারা।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।’
গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন টিপু। তার দাবি, চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
টিপু আরো জানান, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে
