রবিবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা দুঃখজনক: ধর্মমন্ত্রী নরসিংদী মোটরসাইকেল ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু এখন আন্দোলন নয়, সবাইকে উন্নয়নকাজে সহযোগিতা করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নতুন বিনিয়োগ তৈরি করবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সর্তকতার পরামর্শ বিশ্লেষকদের আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা সাজেকে হামলার অভিযোগে দুই জেলায় অবরোধ তিন দশকে ভয়ংকর এডিস; ডেঙ্গু এখন আঞ্চলিক মহামারি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬
Advertise with us

চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মামলায় আটকে আছে হাজার কোটি টাকার পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৭৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মামলায় আটকে আছে হাজার কোটি টাকার পণ্য

চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মামলায় আটকে আছে আমদানিকারকদের হাজার কোটি টাকার পণ্য। এতে শুধু রাজস্বই আটকে আছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টসহ নানা বিচারিক আদালতে অনেক মামলা চলছে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়, কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, মামলা পরিচালনায় বছরে বরাদ্দ মাত্র ২ লাখ টাকা, তাছাড়া নেই পর্যাপ্ত জনবলও।

বোয়ালখালীতে তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা ইয়াসির আরাফাতের ছোট লবণ কারখানা। পাকিস্তান থেকে গত মে মাসে ২২ টন রক সল্ট আনেন। প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের এ চালানটি আটকে যায় আইনি জটিলতায়। গত ৪ মাসে মামলা, জরিমানাসহ তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু এখনো এ লবণ পাননি তিনি। এখন তার কারখানা বন্ধের উপক্রম।

ওয়ারদা অ্যান্ড জুবায়ের অ্যাগ্রো ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘র মেটেরিয়াল নাই, শিল্পের কাঁচামাল আমার নাই। আমার উৎপাদন অলরেডি বন্ধের পথে। অনেক স্টাফ ছাঁটাই করে দিছি। এ আমাদের মামলার পেছনে পেছনেই তো আমার প্রায় অনেক টাকা চলে গেছে। ১৫-১৬ লাখ টাকা মামলার পেছনে চলে গেছে। আমার ৮ লাখ টাকার মাল, কন্টেইনার ডেমারেজসহ আসছে ৪০-৪৫ লাখ টাকার ওপরে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ হাজার ৪৫৯টি মামলায় আটকে আছে হাজার কোটি টাকার পণ্য। এতে সরকারেরই রাজস্ব আটকা পড়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এসব মামলার মধ্যে হাইকোর্টে আছে ৯ হাজার ২৮৩টি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ১৬১টি, কাস্টমস-এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালে ৮৬৩টি, কমিশনার আপিলের কাছে ১৪৮টি মামলা।

কিছু মামলা চলছে দুই যুগ ধরেও। বছরের পর বছর এসব মামলা পরিচালনা করতে হচ্ছে কাস্টমসকে। ব্যবসায়ীরাও পড়ছেন নানা রকম আইনি জটিলতায়। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি নীতি ও বিভিন্ন সংস্থার আইনে সমন্বয়হীনতা, এইচএসকোড জটিলতা, রাসায়নিক পরীক্ষা, ভুল ডিক্লারেশনসহ বিবিধ কারণে মামলার পরিধি বাড়ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, ‘এইগুলো নিষ্পত্তির জন্যই কিন্তু আমাদের বিকল্প আইডিয়াটা, সেইটা কিন্তু হয়েছিল এ কারণেই। সেইটা খুব গতিশীল হয়নি, এখন তো মুখ থুবড়ে পড়েছে আমি যতটুকু দেখছি। এখানে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এটা, যেটাই হয় সেটা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মো. গোলাম রব্বানি বলেন, ‘কয়েক হাজার কন্টেইনার পড়ে আছে, এগুলিকে অকশনে ছেড়ে দেয়ার জন্য, এর জন্য আলাদা টিমও করেছে। এনবিআর তার যৌথ উদ্যোগে, কাস্টমসের সহিত এবং চেম্বারের সহিত যৌথ উদ্যোগে একটা টিম করে দিয়ে এ ব্যাংক গ্যারান্টিগুলি সেটেলমেন্ট করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

এদিকে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ১০ হাজার মামলা পরিচালনার জন্য বরাদ্দ বছরে মাত্র ২ লাখ টাকা। লোকবল ৭-৮ জন। সরকার নজর দিলে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘আমাদের আইন শাখা আছে, তারা অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয়ের অফিসের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক আমরা যোগাযোগ রাখছি। তবে যেহেতু বিচারিক প্রক্রিয়া একটা বিধিবদ্ধ আইন এবং একটা সিস্টেমেটিক ওয়েতে এটা যেতে হয়, যাতে কোনো পক্ষই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ন্যায়বিচার যাতে নিশ্চিত হয়, যার কারণে এটা একটু ডিলে হয়।’

আমদানিকারকরা বলছেন, এ বিপুল মামলাজট দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নিলে মোটা অংকের অর্থ ও পণ্য নষ্টের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়তে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়