
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘আমার বাবা পুলিশ অইছিল, আমার বুকটা ভইরা গেছিল। আমার হেই বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে! আমার বাবায় জানি কত কষ্ট পাইয়া মরছে’- ছেলের মৃত্যুতে এভাবেই বিলাপ করে কাঁদছিলেন চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল আলামিনের মা সেলিনা বেগম। এ সময় তার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ির পরিবেশ।
নিহত পুলিশ কনস্টেবল আলামিন মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। আলামিনের আড়াই মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওয়াসা মোড় এলাকায় জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে চেকপোস্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন আলামিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। সন্দেহজনকভাবে তিন যুবককে হাঁটতে দেখে তাদের থামার সংকেত দেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় একজন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরতে মোটরসাইকেল নিয়ে মসজিদের পশ্চিম গেটের দিকে এগিয়ে যান আলামিন। ঠিক তখনই পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি বাস তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়েন এবং বাসটি তাকে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। সহকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আলামিনের বাবা আব্দুল হক সরদার জানান, ‘কয়দিন আগে ছুটিতে আইছিল আলামিন। শুক্রবার জুমার পরে আমার সঙ্গে ছবি তুলেছিল। আমি তো বুঝি নাই যে এইডাই আমার বাবার সঙ্গে আমার শেষ ছবি।’
বোন হালিমা জানান, ‘আমার একটা ভাই পুলিশ হইছে, আমরা যে কত গর্ব করছি। আল্লাহ যে আমার ভাই রে এত তাড়াতাড়ি নিয়া যাইব, আমরা তো তা জানতাম না।’
নিহতের স্ত্রী ইশরাত জাহান রিয়া কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমি এখন কিভাবে বেঁচে থাকব। আমার আড়াই মাসের মেয়ে নিয়ে কার দুয়ারে যাব। আমার মেয়ে কাকে বাবা বলে ডাকবে। আল্লাহ, তুমি আমারে এত অল্প বয়সে কি করলা।’
মাদারীপুর সদর থানার অফিসার ইনটার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের একজন পুলিশ সদস্য এভাবে চলে যাওয়া কাম্য নয়। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
