বুধবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

সীতাকুণ্ড কদমরসুল এলাকায় অবৈধ জিঙ্ক পাউডার মজুদ,প্রভাবশালীদের দাপটে চুপ প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সীতাকুণ্ড কদমরসুল এলাকায় অবৈধ জিঙ্ক পাউডার মজুদ,প্রভাবশালীদের দাপটে চুপ প্রশাসন

মোঃ জয়নাল আবেদীন: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায় কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বিপজ্জনক জিঙ্ক পাউডার মজুদের অভিযোগ উঠেছে।এতে স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং সাধারণ মানুষের জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।অবৈধ মজুদকারীদের প্রভাবে নীরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন।গত এক সপ্তাহ ধরে জিঙ্ক পাউডার নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভ্রাম্যমান অভিযানের দৃশ্য চোখে পড়েনি।এরফলে জনমনে বাড়ছে তীব্র ক্ষোভ আর চরম উদ্বেগ।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কদম রসুল এলাকার পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি বন্ধ এমটিএস রুলিং মিলসের ভেতরে খোলা অবস্থায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিপজ্জনক এই জিঙ্ক পাউডার। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই দিনের আলোতে এসব রাসায়নিক পদার্থ আমদানি ও মজুদ করা হচ্ছে, যা পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিঙ্ক পাউডার (ধাতব জিঙ্ক ডাস্ট) শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হলেও এটি অত্যন্ত দাহ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ। আর্দ্রতা বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া অ্যাসিড, ক্ষার কিংবা সালফারের সংস্পর্শে এলে ভয়াবহ রাসায়নিক বিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। জলজ প্রাণীর জন্য এটি মারাত্মক বিষাক্ত এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জিঙ্ক পাউডারের ধূলিকণা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুসের ক্ষতি, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। ত্বকের সংস্পর্শে এলে জ্বালাপোড়া এমনকি পোড়ার মতো ক্ষতও সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ আমদানি ও মজুদ করতে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট, কেমিক্যাল ব্যবসার অনুমতি, আমদানিকারক নিবন্ধন সনদ, ফায়ার লাইসেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ একাধিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি চক্র এসব নিয়ম সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নূর ইসলাম সেক্রেটারির ছেলে রায়হানের কাছে লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, তাদের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দেশবার্তা কে বলছেন, অবৈধ কার্যক্রম প্রকাশ পাওয়ায় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো ও অপপ্রচার চালানো একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই অবৈধ জিঙ্ক পাউডার মজুদ কার্যক্রম বন্ধ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

অবৈধভাবে মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা ও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জিঙ্ক পাউডার নিয়ে সীতাকুণ্ড এলাকা আলোচনা সরব হলেও প্রশাসনের কোন জোরালো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলামের কাছে দেশবার্তা প্রতিবেদক মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর মেলেনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়