
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ‘রেকর্ড করেছে’ চট্টগ্রাম বন্দর। সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৩ টিইইউস কনটেইনার পরিবহন করেছে বন্দর; পাশাপাশি বেড়েছে কার্গো হ্যান্ডলিং এবং বন্দরে আসা জাহাজের সংখ্যাও।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নব নির্মিত ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রতিটি সূচকে অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করতে পেরেছি। আগের অর্থ বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের রাজস্ব আদায় ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
“এটা যুগান্তকারী অর্জন। সেখানে আমাদের স্টেক হোল্ডারস, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিপিং এজেন্টস, কাস্টমস ওনার্স অ্যাসেসিয়েশন ও এজেন্টস, ফ্রেইট ফরোয়াডার্স এবং কাস্টমস সবাই একযোগে কাজ করেছেন বলেই সম্ভব হয়েছে।”
নতুন এই ‘বেঞ্চমার্ক’ পরবর্তীতে এর উপরে আরো দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনের ভিত্তি হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “মাঝে কিছু ব্যত্যয় ঘটলেও এই গ্রোথ আমরা অর্জন করেছি। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের আউটার অ্যাঙ্করেজে (বহির্নোঙরে) আর জাহাজের ওয়েটিং টাইম (অপেক্ষার সময়) নেই। জিরো ওয়েটিং টাইমটা আমরা মেনটেইন করছি।”
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, “বিগত দুই বছরে আমাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবং বিভিন্ন সময় পোর্টের অপারেশন যেভাবে চালানোর তা প্রতিকূলতার কারণে সেভাবে পারিনি।
“তারপরও বাজারে সরবরাহ সবসময় নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চারটা ঈদে। পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে বাজারে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।”
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি হ্যান্ডলিং করে জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্দর মূল গেটওয়ে। সেভাবেই জোর দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে যাতে সরবরাহ ব্যাহত না হয়।
“ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। সবসময় উন্নয়ন কাজ করে যেতে হচ্ছে। আশা করি ভবিষ্যতে আরো ইতিবাচক সুফল দেশবাসী পাবে।”
‘রিজিওনাল লজিস্টিক হাব’ ও ‘রিজিওনাল ম্যানুফেকচারিং হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে বন্দর সম্প্রসারণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার সুফল আগামী চার-পাঁচ বছর পর মিলবে বলেও জানিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান।
চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘে্যর কনটেইনারকে একক ধরে)।
বন্দরের তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আগের অর্থ বছরের তুলনায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫১ টিইইউস বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। সে হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এ প্রবৃদ্ধি হার ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং এ প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এবার ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে যা ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন।
এবার বন্দর জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে ৪ হাজার ৩৩৬টি। আগের অর্থ বছরের তুলনায় যা ২৫৯টি বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছিল ৪ হাজার ৭৭টি।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানের সময়ও কমেছে। বন্দরের হিসাবে, এসময় কনটেইনার জাহাজের গড় অবস্থানকাল ছিল ২ দশমিক ৩৮ দিন। আগের অর্থ বছরে তা ছিল ২ দশমিক ৫৮ দিন।
পাশাপাশি রাজস্ব আয় এবং রাজস্ব উদ্ধৃত্তও গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের তুলনায় বেড়েছে।
এ সংক্রান্ত বন্দরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে বন্দর। তার আগের অর্থ বছরে যা ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
সদ্য বিদায়ী অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ও কমেছে। এবার রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ২৭৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আগের অর্থ বছরে যা ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
২০২৫-২৬ সালে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের অর্থ বছরে রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এতে বিদায়ী অর্থ বছরে ৯৬০ কোটি টাকা আয়কর দেয়ার পরেও তহবিলে ‘বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে পুনঃবিনিয়োগের জন্য’ ৩ হাজার ৭১২কোটি ২০ লাখ টাকা আয়কর পরবর্তী উদ্বৃত্ত আছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
