
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আরও একবার ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেল আগেভাগে। শেষ হলো দলটির তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারও। নরওয়ের বিপক্ষে হেরে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন তিনি।
নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ৬ জুলাই ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচটিতে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। শেষ বাঁশির পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার এবং কিছুক্ষণ পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন তিনি।
“আমি চেষ্টা করেছি, আমি চেষ্টা করেছি। এই মেট লাইফ স্টেডিয়ামে (আমার পথচলা) শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ করলাম। (জাতীয় দলে আমার যাত্রা) যাত্রা এখানেই শেষ।”
২০১০ সালের ১০ অগাস্ট, এই মাঠেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ২-০ ব্যবধানে জয়ের সেই ম্যাচে একটি গোলও করেছিলেন তিনি।
এখানে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও পেলেন জালের দেখা। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট হতাশায় মোড়া, আরও একবার আগেভাগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের বিষাদ সঙ্গী। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ম্যাচের গতিপথ অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর, একদম শেষ সময়ে পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন নেইমার।
অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান এক ফুটবলারের শেষটা এর চেয়ে বুঝি হতাশার আর হতে পারত না। দেশের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আগে থেকেই তার, সেটা এখানে বেড়ে হলো ৮০টি, ১৩০ ম্যাচে।
কিন্তু ওই গোলের সংখ্যা ছাড়া, জাতীয় দলের হয়ে তার প্রাপ্তির ভান্ডার প্রায় খালি। একমাত্র সাফল্য সেই ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয়, যেই টুর্নামেন্ট এখন আর নেই।
এই সময়ে একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জিততে পেরেছে ব্রাজিল, ২০১৯ সালে। ওই টুর্নামেন্টের দলে থাকলেও, চোট পেয়ে শেষ মুহূর্তে ছিটকে যান তিনি।
ক্লাব বার্সেলোনা ও পিএসজিতে অনেক শিরোপার স্বাদ পাওয়া নেইমার গত কয়েক বছরে চোটে ভীষণ ভুগেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশের হয়ে খেলার সময় গুরুতর চোটে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে পড়েন তিনি। সেই থেকে চোট যেন ছিল তার নিত্যসঙ্গী। কখনোই পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি, মাঝেমধ্যে ক্লাবে ফিরলেও খেলতে পারেননি টানা।
বাধ্য হয়ে, ২০২৫ সালের শুরুতে, আল হিলালের সঙ্গে চুক্তির ইতি টেনে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান নেইমার। লক্ষ্য ছিল একটাই- উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তোলার। কিন্তু সেখানেও চোট তার পিছু ছাড়েনি।
গত বছর মে মাসে কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর, বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত কখনোই নেইমারকে দলে ডাকেননি তিনি। কিন্তু অবাক করে দিয়ে, বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের দলে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে রাখেন অভিজ্ঞ কোচ।
চোট নিয়েই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে যোগ দেন নেইমার এবং প্রায় তিন বছর পর, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরেন তিনি। ওই ম্যাচে ১৪ এবং নরওয়ের বিপক্ষে ২৩ মিনিট খেলে, শেষের ঘোষণা দিলেন নেইমার। জাতীয় দলকে বিদায় বললেও, ক্লাব ফুটবলে সান্তোসের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।
