
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকার একটি বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে রায়নগরে তার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বাবুল।
ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে ৯টা। সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকার মিতালী আবাসিকের ১১১ নম্বর বাসার দিকে হেঁটে যাচ্ছে এক ব্যক্তি। নাম বাবুল মিয়া। পেশায় রং মিস্ত্রি।বাসায় ঢোকার মাত্র ১৫ মিনিট পরই ঘটে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। পুলিশের দাবি, বাসায় ঢোকার পর একে একে তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যায় বাবুল।
৭৫ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম থাকতেন রায়নগরের ১১১ নম্বরের চারতলা ভবনের দোতলায়। তাঁদের সন্তান সবাই প্রবাসী। বয়স্ক এই দম্পতির দেখাশোনার জন্য দীর্ঘদিন সঙ্গে থাকতেন গৃহকর্মী আমেনা। সকালেই বাসায় সংস্কার কাজের জন্য আসে কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয় তাদের।
প্রতিবেশীদের ডেকে দরজা খোলার চেষ্টা করে শ্রমিকরা। একপর্যায়ে দরজার ছিদ্র দিয়ে ভেতরে রক্ত দেখতে পায় তারা। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয় পুলিশকে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানায়, বাসায় ঢুকে আমেনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে সে। এসময় বাধা দিলে একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আমেনাকে। এরপর গৃহকর্মীর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসেন বাসার মালিক আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। পুলিশের দাবি, তখন তাদেরও নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় বাবুল।
এসএমপি পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, তার বাড়ির এখানে সে যখন ফিরে আসে তিনটার কাছাকাছি সময়ে তখন তাকে পিক করে আমরা নিয়ে আসি। এখন আমাদের কার্যক্রম চলছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যে ছুড়ি দিয়ে হত্যাকাণ্ড হয়েছিলো তা উদ্ধারের কার্যক্রম আমাদের চলমান রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি বাবুলের। বিকেল ৫টার দিকে সিলেট নগরীর রায়নগর নিজ বাসা থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
