
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার ঘণ্টা অবরোধ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা।
চাহিদা অনুযায়ী সিএনজি জ্বালানি গ্যাস সরবরাহ ও দ্বিতীয় সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণের দাবিতে আড়াই ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে জামালপুর-টাঙ্গইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে তারা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। এতে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে শহরের বাইপাস এলাকায় জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে তারা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে। এতে বন্ধ হয়ে যায় ছোট বড় ও দূরপাল্লার যানবাহন।
জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় দুই মাস যাবৎ চালকরা তাদের চাহিদা মতো গ্যাস পাচ্ছে না। এতে ভাড়াচলিত সিএনজি চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকে বলছে তাদের চাহিদা প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ টাকার গ্যাস থাকলেও তারা ১শ থেকে ৮০ টাকার গ্যাস পাচ্ছে। সেটাও পাচ্ছে ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর। ফিলিং স্টেশনে এসে যে টাকার গ্যাস পাচ্ছে সেটা বাড়ি থেকে আসা যাওয়াতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাই সিএনজি চালকরা জাবেদ ফিলিং স্টেশনকে চালকদের চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ ও জামালপুরে আরো একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজরিন আখতার ও জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল সাকিবসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবরোধ স্থলে আসেন এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় চালকরা। এতে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল।
রাজু ড্রাইভার নামের এক চালক বলেন, আমরা আমাদের চাহিদা মতো গ্যাস পাই না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রাত ১২টার দিকে লাইনে দাঁড়ালে দুপুর ১২টার দিকে গ্যাস পাই। গ্যাসের কারণে ভাড়া মারতে পারি না, সংসার চলে না। এ দেশে আন্দোলন ছাড়া কিছুই হয় না। তাই আমরা আজ আন্দোলন করেছি, রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। এখন প্রশাসনের লোকজন আসলো আমাদের বললো যে এখন থেকে আমরা গ্যাস পাবো। তাদের কথা শুনে আমার অবরোধ তুলে নিলাম। তবে এখন থেকে যদি গ্যাস না পাই তাহলে এর পরে যখন আন্দোলনে যাব তখন প্রধানমন্ত্রী এলেও তার কথা শুনব না।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, আমার পুলিশ সদস্যরা এখানে শুরু থেকেই ছিল। এখানকার আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। আমরা চালকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের কথা শুনে অবরোধ তুলে নিয়েছে।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরিন আখতার বলেন, আমাদের জামালপুর জেলায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন তাই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ ফিলিং স্টেশনের পাইপলাইনে একটু সমস্যা রয়েছে। আর দ্বিতীয় ফিলিংস স্টেশনের বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আমার চালকদের সাথে কথা বলেছি। তারা অবরোধ তুলে নিয়েছে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
