
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকের পর তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আজই (বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ—দলের মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী-সালাহউদ্দিন
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে প্রাথমিকভাবে একজনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রুহুল কবির রিজভী এবার সংসদ নির্বাচন করেননি এবং তাকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। এ কারণে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কে?
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও শূন্য হবে। এ পদে নতুন কাউকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হবে, নাকি বর্তমান কোনো মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শূন্য হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। এরপর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলটির অন্যতম প্রধান নেতৃত্বে ছিলেন।
এবার রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৮ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ সময়। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে
