
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড়ের বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল সিএসসিআরে প্রসূতি মায়ের জন্য নির্ধারিত ইনজেকশন নবজাতকের শরীরে পুশ করার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা শিশুটিকে তড়িঘড়ি করে এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামে স্থানান্তর করেছে সিএসসিআর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ঘটনা ধামাচাপা দিতে অসুস্থ প্রসূতি মাকে তড়িঘড়ি ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দিয়ে কেবিন খালি করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই প্রসূতি ডিসচার্জ দেওয়া হয়। এর আগে নবজাতকটিকে এভারকেয়ারে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় কেবল নার্সের গাফিলতি ছিল না, কেবিনে কর্মরত ডিউটি ডাক্তারের সরাসরি নির্দেশেই অনভিজ্ঞ নার্স সাফিয়া আক্তার মায়ের জন্য নির্ধারিত ‘রোফাইলাক-৩০০’ ইনজেকশনটি সুস্থভাবে জন্ম নেওয়া নবজাতকের শরীরে পুশ করেন। মায়ের তীব্র আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করে ডাক্তারের সাপোর্ট পেয়েই নার্স জোর করে এই কাণ্ড ঘটান। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই শিশুটির হার্টের সমস্যাসহ নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয় এবং রোববার রাত থেকে তার অবস্থা চরম সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সিএসসিআর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. মোরশেদুল করিম চৌধুরী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন। বিবৃতিতে তারা প্রাথমিক ভুল ও অবহেলার কথা স্বীকার করে নেন। ঘটনার পর ইনজেকশন পুশকারী নার্স সাফিয়া আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটি তাদের এনআইসিইউতে পর্যবেক্ষণে এবং স্থিতিশীল রয়েছে দাবি করলেও সোমবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিএসসিআরে আর রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নবজাতকের জীবন যখন মৃত্যুর মুখোমুখি, তখন সিএসসিআর কর্তৃপক্ষ মানবিকতা না দেখিয়ে উল্টো প্রসূতি শাকিলা ইয়াসমিনকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ, কেবিন খালি করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতিকে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই অমানবিক আচরণের পর ভুক্তভোগী পরিবার এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
নবজাতকের ফুফা মো. হাসান জানান, সিএসসিআর কর্তৃপক্ষের এই চরম গাফিলতি, অনভিজ্ঞ কর্মী দিয়ে চিকিৎসা পরিচালনা এবং জোরপূর্বক ডিসচার্জের চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
