শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার চার সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্কসংকেত নামল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত চার বছরের ঘাটতির খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পোশাক শিল্পে বাড়ছে এআই-অটোমেশন ব্যবহার, ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান কূটনৈতিক অধ্যায় শেষে নিউ ইয়র্ককে আজ বিদায় জানাবেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাসসংকট সমাধানে জামায়াতের প্রস্তাব ভ্রুক্ষেপ করেনি সরকার প্রয়াত ও অসুস্থ ৪ সাংবাদিককে ২০ লাখ টাকা দিলো এবিজি ফাউন্ডেশন মিয়ানমারে পাচারকালে ৯৭৫ বস্তা সার জব্দ, আটক ৩
Advertise with us

পোশাক শিল্পে বাড়ছে এআই-অটোমেশন ব্যবহার, ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পোশাক শিল্পে বাড়ছে এআই-অটোমেশন ব্যবহার, ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে দ্রুত বাড়ছে এআই এবং অটোমেশনের ব্যবহার। এতে একদিকে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। সিপিডির এক গবেষণায় ১২ লাখের বেশি শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কার কথা বলা হলেও, শিল্পমালিকরা বলছেন বাস্তবতা ভিন্ন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে এই খাত থেকে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এখন কারখানাগুলোতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক অটোমেশন, স্মার্ট মেশিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তি। এতে উৎপাদনের গতি বাড়ছে, কমছে সময় ও উৎপাদন ব্যয়।

শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা সুতা থেকে কম্পিউটারে মেশিন আধুনিক যে মেশিন আছে, মেশিনে কম্পিউটারে প্রোগ্রাম সেট করে দেই। সেট করার পার্ট অনুসারে বানায়। সেটা আবার মেকআপে তৈরি করে সোয়েটারে রূপান্তরিত হয়।’

অন্য একজন বলেন, ‘এখানে সবকিছু অটোমেটিক মেশিনে কমপ্লিট হয়ে আসে। আমরা শুধু স্যুইংয়ের লেভেল লাগে, ফিনিশিং কমপ্লিট করি।’

তবে প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যথাযথ দক্ষতা উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে ১২ লাখেরও বেশি শ্রমিক বিশেষ করে নারী শ্রমিক কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

অবশ্য শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তি এলেও পোশাক তৈরির প্রতিটি ধাপেই এখনো মানুষের বিকল্প নেই। কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং, কোয়ালিটি চেকিং থেকে শুরু করে প্যাকেজিং—সব ক্ষেত্রেই দক্ষ শ্রমিক অপরিহার্য।

উইন্টার ড্রেস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অটোমেশন আসছে আপনার যেসব জায়গাগুলো আপনার ক্রিটিক্যাল জোন। যেমন ধরেন নিটিং করতে হবে, যেমন হয়তো ওয়াশ করতে হবে, যেমন একটা মালকে এক্সপোর্ট করার সময় কার্টুন লোড দিতে হবে মাথায় করে, সেটাকে অটোমেশন করে এখন ডিরেক্ট গাড়িতে চলে যাচ্ছে। এই টাইপের আরকি অটোমেশন। ম্যানপাওয়ার কমবে না, বরঞ্চ ম্যানপাওয়ারের স্কিল তৈরি হবে যেটা বহির্বিশ্বের সঙ্গে আরও মান উন্নয়নের জন্য সুবিধা হবে।’

শিল্প মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তবে অটোমেশনকে চাকরি কমানোর উপায় হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে দেখছেন তারা। একইসঙ্গে শ্রমিকদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারবে।

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামানো সম্ভব নয়। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলেই যেমন উৎপাদন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানও হবে আরও টেকসই—এমনটাই মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১
১৩৪১৫১৬১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৯৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়