বুধবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ

বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপট এবং দেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্র বিচার-বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক দূরদর্শী নেতার মতোই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দিতে অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। উত্তরণ পেছানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী ওই চিঠি দিয়েছেন। দেশের আর্থিকখাত সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে ইতিবাচক দেখছেন। একই সঙ্গে এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সৃষ্ট চলমান জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, পুঁজিবাজারে দীর্ঘস্থায়ী সংকট, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যসহ একগুচ্ছ কারণের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সঠিক ও যথার্থ। এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণে গত পাঁচ বছরে কার্যকর কোনো প্রস্তুতি না থাকার কথা বলা হয়েছে। এই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার শুধুমাত্র ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নিজেদের উন্নয়ন প্রচারণা করেছে, কাজের কাজ কিছুই করেনি। এরপর গত দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারও এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্লেখ্য, এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মধ্যম আয়ের (উন্নয়নশীল) দেশ হলে অনেকগুলো সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক ওইসব সুযোগ-সুবিধা এখনোই যাতে হারাতে না হয় সে জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে গতকালই বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছেÑ টানা তিন বছর ধরে মন্থর প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক প্রতিকূলতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

অবশ্য বাংলাদেশ যে আর্থিক সক্ষমতার বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে তা প্রমাণিত। কারণ মিথ্যা পরিসংখ্যান দিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সময়ে অর্থনীতির সূচকগুলোকে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার সূচকগুলো ছিল নিজস্ব চিন্তার। যে কারণে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের ওই আন্তর্জাতিক মানে এখনো যায়নি দেশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, গত আট মাস দেশের রফতানি আয় কমছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। এছাড়া নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জ্বালানি সঙ্কটের পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় এক লাখ বিদেশগামী কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে পারেননি। একই সঙ্গে এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে উন্নয়নশীল দেশের উত্তরাধিকার পেয়েছে বাংলাদেশ। মিথ্যা তথ্যের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে নাজুক অবস্থার শিকার। কারণ সঠিক তথ্য না থাকায় কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সঠিকভাবে কাজে আসেনি। তাই এলডিসি তালিকা থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার যে আবেদন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করেছেন তা একটি সময়োপযোগী, যথার্থ ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ ইনকিলাবকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের কাছে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার যে অনুরোধ করেছেন তা যৌক্তিক, বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই সিনিয়র অর্থনীতিবিদ বলেন, করোনার পর দেশে কোনো উন্নয়নই হয়নি। এই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের নামে মিথ্যা বা ভুল পরিসংখ্যান দিয়ে অর্থনীতিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়ে ঢাক-ঢোল পেটাতে ব্যস্ত ছিল। ওই সময়ে লুটপাট-অর্থপাচার ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়নই ঘটেনি। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এলডিসি সক্ষমতা উন্নয়ন ও সংস্কারে (বাণিজ্য-বিনিয়োগ) উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এলডিসি থেকে উত্তরণ বাস্তবায়নে নেতৃত্বদানকারী সংস্থা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এতে জিএসপি (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস) হলো উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দেয়া একতরফা শুল্কমুক্ত বা স্বল্পশুল্কের বাণিজ্য সুবিধা। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের পণ্য উন্নত বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য পায়। এটি মূলত পণ্য রফতানির সময় শুল্ক কমিয়ে বা মওকুফ করে রফতানি আয় বাড়াতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে ইআরডি প্রাসঙ্গিক সংস্থা কিনা তা দেখতে হবে। এটা সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাসরুর রিয়াজ বলেন, এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে জড়িত আরেকটি বিষয় হলো ট্রিপস (ট্রেড রিলেটেড আসপেক্টস অব ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস) হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মেধাস্বত্ব অধিকারের ন্যূনতম মানদ- নির্ধারণ করে। এটি কপিরাইট, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক এবং শিল্প নকশার মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এর সঙ্গে জড়িত শিল্প, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রফতানি বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও বিশেষ ভর্তুকি (সাবসিডি) সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। যা নিয়ে কাজ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অথচ এলডিসি থেকে উত্তরণ সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইআরডি। বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই সিনিয়র অর্থনীতিবিদ বলেন, ইআরডি এলডিসি’র বিষয়টি এতোদিন সমন্বয় করেছে যা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এখন বাস্তবায়নের বিষয়। এখানে বাণিজ্য, অর্থ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাজ। তাই বিষয়টির বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে থাকা উচিত।

সম্প্রতি জাতিসংঘের সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস অফিস অব দ্য হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ফর দ্য লেস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রিজ, ল্যান্ডলকড ডেভেলপিং কান্ট্রিজ অ্যান্ড স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্ট্যাটস (ইউএনওএইচআরএলএলএস)-এর মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির বড় ঘাটতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে যা উল্লেখ করেছেন।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা পূর্ণ আস্থার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সমর্থন বিনীতভাবে কামনা করছি। আমাদের লক্ষ্য এই বহু আকাক্সিক্ষত উত্তরণকে প্রতিহত করা নয়; বরং এটি যেন টেকসই এবং স্থিতিস্থাপক হয়, তা প্রকৃত অর্থেই নিশ্চিত করা। এতে উল্লেখ করা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণ দীর্ঘদিনের জাতীয় আকাক্সক্ষা। কিন্তু ধারাবাহিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতার ক্রমবর্ধমান চাপ বাংলাদেশকে একটি সতর্ক ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করেছে।

জানা গেছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) তাদের চ্যানেলের মাধ্যমে চিঠিটি মহাসচিবের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। জানতে চাইলে ইআরডির শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি জাতিসংঘের মহাসচিব পেয়েছেন। সরকারপ্রধানের অনুরোধ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে তারা মনে করছেন।

মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতাÑ এই তিন সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২১ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। পাঁচ বছর প্রস্তুতিকালীন সময় শেষে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এরই মধ্যে গণঅভ্যুত্থানে বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর দেড় বছর একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। এলডিসি থেকে বের হলে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে হবে। আরো অনেক সুবিধা হারানোর ইস্যু রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রস্তুতির জন্য এটি যথেষ্ট নয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অর্থনীতির সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে ইআরডি জাতিসংঘের কমিটি ফর পলিসির কাছে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পেছানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। ওই কমিটি এখন এ বিষয়ে কাজ করছে। কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদকে জানাবে।

গত রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ইউএনওএইচআরএলএলএসের মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় উত্তরণ হলে রফতানি সক্ষমতা কমবে। রফতানি কমলে খেলাপি ঋণ আরো বাড়তে পারে, যা বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করবে। সরকারের আয় কমলে দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা আরো কঠিন হয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে চাপে পড়বে অর্থনীতি।

প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, আমরা একটি ভয়াবহ বিপর্যস্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। যার বৈশিষ্ট্য হলোÑ বেসরকারি খাতের জন্য অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, একটি দুর্বল পুঁজিবাজার, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য। বেশির ভাগ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পণ্য ও সেবামূল্যে অস্থিরতা আমাদের রাজস্ব সংস্থান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরো সংকুচিত করেছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়টি এমন এক সময় বিবেচনা করা হচ্ছে, যখন দেশ চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত ব্যাপক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। বর্তমান জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাপের মধ্যে ফেলেছে। জনগণের বছরের পর বছর ধরে অর্জিত কষ্টসাধ্য অগ্রগতি উল্টে যাওয়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকার কারণ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়, দুর্ভাগ্যবশত অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্ববর্তী শাসনামলে নির্ধারিত পাঁচ বছরের প্রস্তুতি পর্বের বেশির ভাগ সময়ই পর্যাপ্ত অগ্রগতি ছাড়াই অতিবাহিত হয়েছে। এ রকম একটি বাস্তবতায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি মসৃণ, টেকসই এবং স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা, জিডিপি এবং পণ্য রফতানির দিক থেকে বাংলাদেশ বৃহত্তম স্বল্পোন্নত দেশ। দেশের অগ্রগতির পেছনে বহুলাংশে রয়েছে এলডিসিকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থা। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা এবং মেধাস্বত্বের ক্ষেত্রে নমনীয়তা। এসব ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হলে তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে এবং অর্জিত উন্নয়নকে উল্টে দেয়ার একটি বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়