
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
সোমবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে লিমকে দাফন কর হবে বলে জানিয়েছেন তার চাচা জিয়াউল ইসলাম।
জিয়াউল বলেন, “বিকাল ৪টার দিকে লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছবে। এরপর বাদ মাগরিব লালডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দাদা দাদির কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে লিমনকে দাফন করা হবে।”
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে লিমনের মরদেহ বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি (ইকে ৫৮২) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ গ্রহণ করে। পরে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় মরদেহ বহনকারী গাড়ি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ওই সময় থেকেই নিখোঁজ হন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
তাদের ফোন বন্ধ পেয়ে এবং কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবার। পরে গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে ফোনে জানায়, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
লিমনের চাচা জিয়াউল ইসলাম বলেন, লিমনের বাবা জহুরুল হক ১৯৯৪ সালে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তারা ঢাকাতেই থাকেন। মাঝে মাঝে তারা গ্রামের বাড়ি আসেন। লিমন ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করেন। ২০২৪ সালে জুলাই মাসের দিকে পিএইচডি করার জন্য লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভর্তি হন বলে জানান তিনি।
লিমনের মৃত্যুতে স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করেছেন তারা।
