মঙ্গলবার ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং নিয়ে হতাশ প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং নিয়ে হতাশ প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নিয়ে হাতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কি না, এমন প্রশ্ন অনেকের আলোচনা ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছতে পারেনি।”

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘ট্রান্সফরমিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন, এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদরা নিশ্চয় আরও চিন্তা-ভাবনা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।”

তারেক রহমান বলেন, “মেধাপাচার রোধ করে মেধা লালন করে দেশ গড়তে চায় সরকার। আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন। আমরা মনে করি, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি।”

তিনি বলেন, “আমি আরও একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।”

সরকার প্রধান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই, তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড’।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

নতুন বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার কার্যকর বাস্তবায়তে সরকার আন্তরিক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন “ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে। স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।”

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়