
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সড়ক প্রস্তুতকরণের কথা বলে সুনামগঞ্জে ২৫ বছর পুরনো সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটছে বনবিভাগ। অথচ প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানে না বলছে খোদ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ফলে গাছ কাটা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জের মানুষ। পাশাপাশি গাছ কাটা বন্ধ না হলে বনবিভাগ ঘেরাও করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা কমিটি।
সুনামগঞ্জ থেকে সাচনা প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়ক, যে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিকেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করে। এই সড়কের দু’পাশে সারি সারি গাছের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হন মানুষ। সড়কের দু’পাশের গাছ যখন বন বিভাগের রক্ষা করার কথা, সেখানে তারা নিজেরাই সড়ক প্রসস্তকরণ প্রকল্পের নামে গাছ কাটা শুরু করেছে।
২৪-২৫ বছর বয়সী এসব গাছ গত দুই বছর আগে একবার কাটার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় মানুষদের প্রতিবাদে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থগিত হয় গাছ বিক্রির দরপত্র। রক্ষা পায় হাজারো গাছ। কিন্তু এই বছর নীরবেই দরপত্র আহবান করে সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার প্রক্রিয়া শেষ করেছে বন বিভাগ। এরই মধ্যে কাটা হয়েছে প্রায় এক হাজার গাছ।
এ বিষয়ে বন বিভাগ বলছে, ২০০১-০২ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো এসব গাছের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। গাছ বিক্রি হয়েছে ৮৪ লাখ ৭ হাজার ৮০০ টাকায়। সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী ৫৫ ভাগ, বন অধিদপ্তর ১০ভাগ, ভূমির মালিক হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০ভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ৫ ভাগ টাকা পাবে। বাকি ১০ভাগ টাকা আবার বনায়নের জন্য রাখা হবে। অথচ যে বনায়ন প্রকল্পের অজুহাত গাছ কাটা হচ্ছে, সেই প্রকল্পের উপকারভোগীরা জানে না গাছ বিক্রির বিষয়। প্রাপ্য টাকাও দেয়া হয়নি বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যারা এই গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করছে, তাদেরকে না বলে তাদের মতো করে তারা ক্ষমতার জোরে সেই গাছগুলো কাটছে।
সুনামগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জ টু সাচনা যে সড়কটি, সেই সড়কটি সম্প্রসারণ হবে। এবং এই সড়কের এক অংশ থেকে উড়াল সেতু ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। উড়াল সেতু এসে এই সড়কে নামবে। সড়কের সংস্কার হবে, এজন্য গাছ কাটা প্রয়োজন।
এদিকে, যে সড়ক সম্প্রসারণের দোহাই দিয়ে হাজার হাজার গাছ কাটা হচ্ছে, সেই সড়ক সম্প্রসারণের কোনো প্রকল্পই নেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, আমাদের যে সুনামগঞ্জ থেকে আব্দুজ জহুর সেতু পার হয়ে টুকের বাজার হয়ে সাচনা বাজার যে রোডটা, এখানে আমাদের এখন কোনো সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান নেই। সো আমাদের বৃক্ষ মানে গাছ কাটার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততাও নেই।
এই সকল গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করবে বলে জানায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি এই নেতা।
সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওরের এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
সড়কের দুই পাশে অবশিষ্ট যে গাছগুলো রয়েছে, সেগুলো যাতে কাটা না হয়- সেই দাবি সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর।
