
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অব্যবহৃত মোবাইল ডেটার মেয়াদ আনলিমিটেড করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের প্রায় ১১ কোটি ৩৫ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্যাটার্ন এবং চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপারেটরদের প্যাকেজ ডিজাইন করতে হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, মোবাইল ইন্টারনেট ডেটার মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত ডেটা বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় এ সমস্যা নিরসনকল্পে সরকার সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, উচ্চ স্থাপন ব্যয় ও পরিচালন ব্যয়সম্পন্ন মোবাইল ইন্টারনেট জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে অপারেটররা মেয়াদভিত্তিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেজ আকারে মোবাইল ইন্টারনেটসেবা দেয়। যাতে গ্রাহক তার চাহিদা অনুসারে ইন্টারনেটসেবা উপভোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে মূল্যমান নির্ধারণে ভলিউমের সঙ্গে মেয়াদটিও গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ইন্টারনেটের মেয়াদ রাখা শুধুই ব্যবসায়িক বিষয় নয়; এর পেছনে টেকনিক্যাল, অর্থনৈতিক, নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্টসহ তিনটি বিষয় কাজ করে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মোবাইল ইন্টারনেটের মেয়াদভিত্তিক প্যাকেজ প্রচলিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিটিআরসি থেকে কোনো প্যাকেজের মেয়াদপূর্তির আগে একই ডেটা প্যাকেজ ক্রয় কিংবা অটো রিনিউ করা হলে অব্যবহৃত ডেটা ক্যারি ফরওয়ার্ডের বিধান রয়েছে। ফলে গ্রাহকের মূল্যবান ডেটা হারানোর ভয় থাকে না। এছাড়া বিটিআরসির নির্দেশনাক্রমে সব অপারেটরের সুদীর্ঘ মেয়াদের (১০ বছর) ডেটা প্যাকেজ রয়েছে যা একরূপ আনলিমিটেড মেয়াদেরই নামান্তর।
গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেটসেবার মানোন্নয়নে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন এরই মধ্যে গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা এবং সেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত কোয়ালিটি অব সার্ভিস নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ডেটা গতিসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষমতা সূচকের (কেপিআই) মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেটের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে কমিশন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিয়মিত ড্রাইভ টেস্ট পরিচালনা করছে।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, এয়ারপোর্ট, রেলস্টেশন, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৪০টি এলাকায় ফাইভজি সেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা, সিলেটসহ সারা দেশের প্রায় ৪০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্বল্প পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
