
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও গারো পাহাড়ের নদী, ঝরণা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে পাহাড়ি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে কাংশা ইউনিয়নের দরবেশতলা এলাকায় কালঘোষা নদী থেকে কমপক্ষে ১০ জনকে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। এছাড়া বনরানী এলাকার একটি পাহাড়ি ঝরণা থেকেও দুই-তিনজনকে বালু উত্তোলনে ব্যস্ত দেখা যায়।
তবে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দ্রুত সরে যান। ফলে তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটি এলাকা থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দিনে ও রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কারণে কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ফের বালু উত্তোলন শুরু করে চক্রটি।
জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার’ (সোয়ান)-এর সভাপতি মো. নাইম ইসলাম বলেন, “গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার আলী অভিযোগ করে বলেন, “গারো পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “এভাবে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন হওয়ার পেছনে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব ভূমিকা থাকতে পারে। না হলে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলতে পারত না।”
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ খান।
তিনি বলেন, বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজে জড়িত নন। অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ২২ জুন ভোরেও গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও কারাদণ্ড, কোথাও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন জব্দ ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।”
