
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়া এখন যেন ভোগান্তির আরেক নাম। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পাম্পগুলোতে প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিবহন চালক, রাইড শেয়ারিং কর্মী ও কৃষক।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে সরেজমিন দেখা গেছে, তেল নিতে একাধিকবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে অনেককে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তেজগাঁওয়ের সিটি পেট্রোল পাম্পে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মোটরসাইকেলের লাইন ভেতরের ট্রাকস্ট্যান্ড ঘুরে সাতরাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। লাইনের শুরুতে থাকা চালক আরমান হোসেন জানান, কয়েক পাম্প ঘুরে এখানে এসেছেন। অন্যগুলোতে লাইন আরও বেশি। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল নিতে পারছেন। শেষের দিকে থাকা বাইকচালক সেলিম মোল্লা বলেন, একদিন কষ্ট করে ট্যাংক ভরে নিতে পারলে কয়েক দিন আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না। সেই ভরসাতে লাইনে দাঁড়ালাম। সামনে আরও দেড় শতাধিক বাইক রয়েছে। তেল পাব কিনা– জানি না। তাও লাইন ধরেছি।
ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি আরও জটিল। গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় তেলের খোঁজ পেলেই মুহূর্তে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু চক্র বারবার তেল নিয়ে মজুত করছে। ফলে সাধারণ গ্রাহক বঞ্চিত হচ্ছেন। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রাতেই মোটরসাইকেল রেখে সিরিয়াল দখল করে সকালে তা বিক্রির ঘটনাও সামনে এসেছে।
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেলের চাপ কিছুটা কমলেও সেচ মৌসুমে ডিজেলের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। নির্ধারিত সীমার বেশি তেল না পাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। অন্যদিকে রাইড শেয়ারিং চালকরা জানান, আগে দিনে ১০-১২টি ট্রিপ দিতে পারলেও এখন তা নেমে এসেছে ৫-৬টিতে। ফলে আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অভিযান ও উদ্ধার
সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সারাদেশে অভিযান জোরদার করেছে। ৬ এপ্রিলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬৪ জেলায় ৩৮৪টি অভিযান চালিয়ে ১৯৪টি মামলা করা হয়েছে এবং ৮ লাখ ২৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা মোট ৩ হাজার ৬৫৭ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
দাম বাড়ল জেট ফুয়েলের
গতকাল জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ২৫ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে গত ২৪ মার্চও জেট ফুয়েলের দাম এক দফায় ৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এতে দেশের বিমান পরিবহন খাতে নতুন চাপ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা, যা মার্চে ছিল ২০২ টাকা ২৯ পয়সা।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই দাম ছিল ০ দশমিক ৭৩৮৪ মার্কিন ডলার।
