সোমবার ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ছোট ঋণে খেলাপির ৬৮ শতাংশ ১০ ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৪ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ছোট ঋণে খেলাপির ৬৮ শতাংশ ১০ ব্যাংকে

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৯ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা এ খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। অথচ ব্যাংক খাতের মোট সিএমএসএমই ঋণের ৩৮ শতাংশের কম রয়েছে এসব ব্যাংকে। এই ব্যাংকগুলোর উচ্চ খেলাপির প্রভাবে পুরো ব্যাংক খাতে ছোট ঋণের খেলাপির হার অনেক বেড়েছে। মোট ঋণে এসএমইর অংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু তা না বেড়ে আরও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় এসএমই নীতির আলোকে ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ঋণের ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সাল নাগাদ ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ এ খাতে দেওয়ার কথা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ বাড়ানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কর্মসংস্থান বাড়ানো। উন্নয়নশীল দেশগুলো সব সময়ই এ ধরনের খাতে বেশি জোর দিয়ে থাকে। বর্তমান সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঠিক করেছে। এ জন্য বন্ধ কারখানা সচল করার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোট ঋণে সিএমএসএমইর অংশ কমছে
মোট ঋণে সিএমএসএমই খাতের অংশ না বেড়ে ধারাবাহিকভাবে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতে দেওয়া হয়েছে তিন লাখ এক হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে সিএমএসএমই খাতে ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ঋণের ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল এ খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএমই ঋণ বাড়াতে নানা নির্দেশনা দিয়ে আসছে। তবে ব্যাংকগুলো কম কষ্টে বেশি মুনাফা করার আশায় সব সময়ই করপোরেট ঋণে বেশি আগ্রহ দেখায়। কিন্তু বড় ঋণ দিয়ে অনেক ব্যাংক ঝামেলায় পড়েছে। তা আদায় না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

তারা জানান, সিএমএসএমই খাতে উৎসাহিত করতে গত ডিসেম্বরে কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখার শর্ত শিথিল করা হয়। এ জাতীয় সাধারণ ঋণ ও দুই মাস পর্যন্ত বকেয়া ঋণে (এসএমএ) বিপরীতে দশমিক ৫০ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। এর আগে এটি সাধারণ ঋণে ১ ও এসএমএতে ৫ শতাংশ ছিল। এ ছাড়া বিনা জামানতে নারীদের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং অন্য ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই এমন ব্যবসায়ীরা যে কোনো ব্যবসা-সংক্রান্ত সনদ দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এরপরও ব্যাংকগুলো সিএমএসএমই ঋণের চেয়ে করপোরেট খাতে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহ দেখায়।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণের মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মানে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি। মূলত বড় করপোরেট গ্রুপের প্রভাবে ব্যাংক খাতের খেলাপি এ পর্যায়ে উঠেছে। ১০টি ব্যাংকের উচ্চ খেলাপির পরও ব্যাংক খাতের মোট খেলাপির তুলনায় সিএমএসএমই খাতে খেলাপির হার অনেক কম। অনেক ভালো ব্যাংকের এসএমইতে খেলাপি ঋণ খুব সামান্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশের শীর্ষ এসএমই ব্যাংক ব্র্যাকের এ খাতে মোট ঋণ রয়েছে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণ মাত্র ৬৬৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের মাত্র ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

খেলাপি ঋণে শীর্ষ ১০ ব্যাংক
গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ৭২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ রয়েছে শীর্ষ ১০ ব্যাংকে। সিএমএসএমই ঋণের পরিমাণে বিবেচনায় খেলাপি সবচেয়ে বেশি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে। এ খাতে ব্যাংকটির ২৯ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের ১১ হাজার ৪২ কোটি টাকা এসএমই ঋণের বিপরীতে ৫ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। এ খাতে সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ঋণের ৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা খেলাপি।

পরিমাণ বিবেচনায় সিএমএসএমই খাতে খেলাপি ঋণে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির ৫ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৪ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

এর পরের অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সিএমএসএমই ঋণের তিন হাজার ৮৯১ কোটি টাকা খেলাপি। এ ছাড়া এসআইবিএলের ৪ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা ঋণের ৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

পদ্মা ব্যাংকের তিন হাজার ৩৭১ কোটি টাকার মধ্যে তিন হাজার ২১৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। আর এ খাতে এক্সিম ব্যাংকের ৫ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা ঋণের ৩ হাজার ৫৮ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়