সোমবার ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স স্থগিত নিয়ে দলীয়করণ কেন, জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স স্থগিত নিয়ে দলীয়করণ কেন, জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, হাসপাতালটিতে ‘অক্সিজেনের অভাব ও অবহেলার কারণে’ নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে; তাই হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কথা বলছিলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আজকে অনেক মাননীয় সংসদ সদস্য আদ্-দ্বীন নিয়ে কথা বলেছেন। বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করায়। সত্য।

“মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে না কি? অস্বীকার করবেন? করতে পারেন না। আনতে হবে।”

কোরবানির ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ। এরপর গেল ১১ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা হয়।

সংসদে ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনার তুলনার জবাবও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “উনারা কোভিড টাইমে ইউনাইটেড হসপিটালে আগুন লেগে ছয়জন মারা গেছে, তখন তো ইউনাইটেডের লাইসেন্স সরকার বন্ধ করেনি, এটা বলেছেন। বার্ন ইউনিটের আগুনের কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত।

“ইউনাইটেড এবং বার্ন ইউনিটের ঘটনা ছিল দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের কারণে। কিন্তু আদ্-দ্বীনে যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কেউ যাননি। আজকে সংসদে কথা বলেন।”

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাখাওয়াত বলেন, শিশুরা যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন ওয়ার্ডে অক্সিজেন ছিল না।

তিনি বলেন, “ছয়টা শিশু যখন হাত-পা বাইরে বের করে বাঁচার জন্য কাঁদতেছিল, সেই হাইপারক্যাপনিয়ায়, এসি বন্ধ করে দিয়েছে, ঘরে জানালা নেই, কাচ বন্ধ, কোনো অক্সিজেন নেই।”

ওয়ার্ডে থাকা মায়েদের অবস্থার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

“১৬-১৭ জন মানুষ, মায়েরা কাঁদতেছে, ছোটাছুটি করতেছে; একজন ডাক্তার আসেনি। সেই বাচ্চাগুলি ছটফট করতে করতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য তারা মৃত্যুর কোলে পড়েছে।”

হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে যাননি বলেও অভিযোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু ঘটনার পরের দিন আমি গিয়েছি। আমি দুইজন ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। তারা একমত হয়েছেন, এটা অবহেলার কারণে, অক্সিজেনের অভাবে বাচ্চাগুলি মারা গেছে।”

এ অবস্থায় সরকার বসে থাকতে পারে না মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কি বসে থাকব, মাননীয় স্পিকার? আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ।”

মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারকে দেখতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সে বাচ্চাগুলি মারা গেল, কয়েকটা টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে; তাও পুরো দেয়নি। ওরা আমার কাছে এসেছে।”

হাসপাতালটি লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সাখাওয়াত বলেন, সরকার মাত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছে, হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি। আপনারা প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সাথে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছেন ৭১ সালে।”

নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আই মাস্ট ডাই ফর মাই নেশন। আমি আমার প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আই মাস্ট লুক আফটার দ্য ওয়েলফেয়ার অব হেলথ অব মাই পিপল। আমার বাচ্চাগুলো মরে যাবে বিনা চিকিৎসায়, দ্যাট ক্যান্ট বি।”

হাসপাতালের ভেতরে অব্যবস্থাপনার অভিযোগও সংসদে তোলেন তিনি।

সাখাওয়াত বলেন, “যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নিয়েছে, সেই হাসপাতালের ভেতরে ছয় তলার মধ্যে একটা বেকারি কারখানা করেছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন বেকারি, এমন স্তূপ, প্লাস্টিকের বর্জ্য, একটা আগুন লাগলে একটা রোগী, একটা অভিভাবক, একটা অ্যাটেনডেন্ট বাঁচতে পারবে না।”

এই অবস্থার জন্য মালিকপক্ষকে দায়ী করে তিনি বলেন, “এই কাজ করেছে মালিক। একটা দিন দেখতে যায়নি। মালিকের অবহেলার কারণে, তার একগুঁয়েমির কারণে সেই পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে।”

বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “তারপরও আপনারা বলবেন, ওরা ঠিক, আমরা ঠিক না? মাথা তো কাটতে বলিনি, মাত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছি। সরকার দেখবে। কিন্তু এটা নিয়ে আপনারা দলীয়করণ করছেন।”

এর আগে বাজেট প্রসঙ্গে সাখাওয়াত বলেন, এটি শুধু সংখ্যার বাজেট নয়; গুণগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য খাতে রোগীর পকেটের খরচ কমানোর বিষয়টি বাজেটে আনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আউট অব পকেট এক্সপেন্স কমাতে হবে মানুষের, এই গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে এই বাজেটে এটাকে আনা হয়েছে।” ক্যান্সার, আইল্যান্ডস ও কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানোর কথাও বলেন তিনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়